নিজস্ব সংবাদদাতা:
আধুনিক সৌদি আরবের একটি মরূদ্যানের আড়ালে চার হাজার বছরের পুরনো একটি সুরক্ষিত শহরের সন্ধান পাওয়া গেছে। কীভাবে সেই সময়ের জীবন ধীরে ধীরে যাযাবর থেকে শহুরে অস্তিত্বে পরিবর্তিত হচ্ছিল, এ শহর থেকে সেই ধারণা পাওয়া যাবে।স্থানীয় সময় বুধবার (৩১ অক্টোবর) প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন, এই শহরটি পরিচিত ছিল ‘আল-নাতাহ’ নামে। আরব উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে মরুভূমি বেষ্টিত সবুজ ও উর্বর মরূদ্যানে দীর্ঘকাল আড়ালে ছিল শহরের ধ্বংসাবশেষ।ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক গিলিয়াম শার্লক্সের নেতৃত্বে পরিচালিত চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, প্রাচীন এই শহরে একটি ১৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রাচীর আবিষ্কৃত হয়েছে। মূলত আবাসভূমির চারপাশ ঘিরে রেখেছিল এই প্রাচীর।গবেষকরা জানিয়েছেন, ব্রোঞ্জ যুগের প্রথম দিকে খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ অব্দে ‘আল-নাতাহ’ শহরটি গড়ে উঠেছিল। এর প্রায় এক হাজার বছর পর এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। তবে কীভাবে শহরটি পরিত্যক্ত হয়েছিল, তা জানা যায়নি।
আল-নাতাহ শহর গড়ে ওঠার সময় ভূমধ্যসাগর বরাবর লেভান্ট অঞ্চলে শহরগুলো বর্তমান সিরিয়া থেকে জর্ডান পর্যন্ত সমৃদ্ধ হয়েছিল। সেই সময়ে উত্তর-পশ্চিম আরবকে অনুর্বর মরুভূমি বলে মনে করা হত। যাযাবররা প্রতিনিয়ত অতিক্রম করত এ অঞ্চলে।১৫ বছর আগে প্রত্নতাত্ত্বিকরা খায়বারের উত্তরে তাইমার মরূদ্যানে ব্রোঞ্জ যুগের প্রাচীর আবিষ্কার করেন। তবে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মরুদ্যানগুলো আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে একটি পাহাড়ের উপর প্রায় ৫০টি বাড়িসহ ২.৬ হেক্টর আয়তনের একটি শহরের চিত্র আঁকা হয়েছে, যেখানে নিজস্ব প্রাচীর রয়েছে।গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাচীন এই শহরের অবস্থানে পাওয়া সমাধিক্ষেত্রের ভেতরে কুঠার এবং ছোরার মতো ধাতব অস্ত্র পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মূল্যবান পাথর ছিল, যা আগে তুলনামূলকভাবে উন্নত সমাজকে নির্দেশ করে।